খুলনা, বাংলাদেশ | |

Breaking News

  রিজভীর সঙ্গে মিতুলের সৌজন্য সাক্ষাৎ, আড়ংঘাটার নানা সমস্যা তুলে ধরলেন।
  আন্তর্জাতিক শান্তি দিবস ২০২৬ উপলক্ষে কেশবপুরে র‍্যালি ও আলোচনা সভা
  নিরাপদ খুলনা চাই-এর উন্নয়নমূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত
  ছবি আছে গ্রামীন ঐতিহ্যের চিরচেনা খেলাধুলা বিলুপ্ত ঈদগাঁওতে 
  বিকেএসপিতে ডাক পেল ঈদগাঁও উপজেলার ইসলামপুরের ক্ষুদে ফুটবলার জিদান
  ডুমুরিয়ার খর্নিয়ায় গণসংযোগ ও কুশল বিনিময় চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী শেখ শাহিনুর রহমান শাহিনের
  ফলোআপ ইসলামাবাদ থেকে চুরি হওয়া গরু দুইটি উদ্বার
  খুলনায় বাংলাদেশ প্রেস ক্লাব খুলনা মহানগর শাখার ৪৫ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি গঠিত
  ডুমুরিয়া খর্নিয়ায় মামলা-হামলার প্রতিবাদে বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশ
  খুলনায় ইউপি নির্বাচনী হাওয়া বইতে শুরু করেছে।চেয়ারম্যান প্রার্থী মতলেবুর রহমান মিতুল এর উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত।

ক্ষমতা ছাড়লেও রেহাই নেই নেতানিয়াহুর, বহাল থাকবে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

ইসরায়েলের সাম্প্রতিক নির্বাচন ও জোট গঠনের প্রক্রিয়া בעקבות প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করেন, ক্ষমতা ছাড়া হলেও তাঁর বিরুদ্ধে চলমান আন্তর্জাতিক ও স্বদেশী আইনি সংকট টলবে না। বরং পদত্যাগ করলে বিদেশি আদালতে গ্রেপ্তারি ও বিচারের ক্ষেত্রে তাঁর আইনি সুরক্ষা আরও দুর্বল হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন।

**আইসিসির গ্রেপ্তারি পরোয়ানা: পদ ছাড়লেও কার্যকর**

গত বছরের নভেম্বরে গাজায় কথিত যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) নেতানিয়াহু ও সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিল। আদালত অভিযোগ আনে, যুদ্ধের কৌশল হিসেবে অনাহার ব্যবহার, হত্যা, নিপীড়ন ও অন্যান্য অমানবিক কর্মকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। তবে এই অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত বিচারিক সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। ইসরায়েল অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ অস্বীকার করার পাশাপাশি আদালতের এখতিয়ার নিয়েও আপত্তি জানিয়েছে।

আইনজীবীদের মতে, নেতানিয়াহুর প্রধানমন্ত্রীর পদে থাকা বা না থাকা—এটি আইসিসির পরোয়ানার বৈধতাকে প্রভাবিত করবে না। রোম সংবিধির ২৭ নং অনুচ্ছেদে স্পষ্ট করা হয়েছে, রাষ্ট্রপ্রধান বা সরকারপ্রধানের মতো উচ্চপদ কোনো ব্যক্তিকে আদালতের এখতিয়ার থেকে অব্যাহত রাখে না। পাশাপাশি ৫৮(৪) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, আদালত অন্য কোনো নির্দেশ না দিলে পরোয়ানা কার্যকর থাকে। ফলস্বরূপ, পদত্যাগ করলেও পরোয়ানাটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হবে না।

গত এপ্রিলে আইসিসির আপিল বিভাগ ইসরায়েলের এখতিয়ারসংক্রান্ত আপত্তি পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছে, কিন্তু সেই পর্যালোচনাকালীন পরোয়ানা স্থগিত করা হয়নি। আইসিসির দাবি, ফিলিস্তিনের ভূখণ্ডে সংঘটিত অপরাধের ক্ষেত্রে আদালত এখতিয়ার প্রয়োগ করতে পারে।

**বিদেশি আদালতে দায়মুক্তির জটিলতা**

নেতানিয়াহু ক্ষমতা ছাড়লে তাঁর আইনি অবস্থান কোন আদালতে কার্যক্রম চলছে সেটির ওপর নির্ভর করবে। আইসিসির ক্ষেত্রে সরকারি মর্যাদা কোনো বাধা নয়। আদালত ইতিমধ্যে সুদানের সাবেক প্রেসিডেন্ট ওমর আল-বশির (২০১৯) ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন (২০২৪) সংক্রান্ত কেসে জর্ডান ও মঙ্গোলিয়াকে গ্রেপ্তারি না করার জন্য দায়ী ठেরেছে।

তবে বিদেশি দেশের জাতীয় আদালতে চিত্র ভিন্ন। আন্তর্জাতিক আইনে রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তাদের জন্য প্রধানত দুটি ধরণের দায়মুক্তির কথা বলা হয়—
* **ব্যক্তিগত দায়মুক্তি:** রাষ্ট্রপ্রধান, সরকারপ্রধান ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মতো পদধারীরা দায়িত্বকালীন সময় বিদেশি আদালতে গ্রেপ্তার ও বিচারের বিরুদ্ধে এই সুরক্ষা পান। এটি সাময়িক; পদ ছাড়ার সাথে এটি সাধারণত শেষ হয়।
* **কার্যগত দায়মুক্তি:** সরকারি দায়িত্ব পালনের সময় করা কাজের জন্য এই সুরক্ষা কাজ করে। পদ ছাড়ার পরও কিছু ক্ষেত্রে এটি কার্যকর থাকতে পারে। তবে যুদ্ধাপরাধ, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মতো জঘন্য অপরাধে কার্যগত দায়মুক্তির সীমা নিয়ে আন্তর্জাতিক আইনে বিতর্ক রয়েছে।

অতএব, প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়লে নেতানিয়াহু বিদেশি জাতীয় আদালতে ব্যক্তিগত দায়মুক্তি হারাতে পারেন। তবে সরকারি কাজের সিলসিলে সংঘটিত কর্মকাণ্ডের জন্য কার্যগত দায়মুক্তি প্রযোজ্য হবে কি না, তা সংশ্লিষ্ট আদালত নির্ধারণ করবে।

**বিভিন্ন দেশের প্রতিক্রিয়া ও সর্বজনীন এখতিয়ার**

পরোয়ানা জারির পর কয়েকটি দেশ দায়মুক্তির প্রশ্ন তুলেছিল। গত নভেম্বরে ফ্রান্স জানিয়েছিল, আইসিসির সদস্য নয় এমন দেশের কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক আইনে স্বীকৃত দায়মুক্তি বিবেচনা করা প্রয়োজন। জানুয়ারিতে ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তায়ানিও দায়মুক্তির নিয়ম মেনে চলার কথা বলেছিলেন। এপ্রিলে হাঙ্গেরি সফরের সময় নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তার না করে হাঙ্গেরি রোম সংবিধির ৯৮ অনুচ্ছেদের হয়ে দায়মুক্তির যুক্তি দিয়েছিল। তবে আইসিসি পরে রায় দিয়েছে, এটি আদালতের সাথে সহযোগিতার বাধ্যবাধকতা লঙ্ঘন।

প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়লে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে বিদেশি আদালতে ব্যবস্থা নেওয়ার পথে একটি বড় আইনি বাধা—ব্যক্তিগত দায়মুক্তি—দূর হয়ে যাবে। বিভিন্ন দেশের আইনে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য সর্বজনীন এখতিয়ারের বিধান রয়েছে। ফলে অপরাধ যদি সংশ্লিষ্ট দেশে না ঘটেও, নির্দিষ্ট শর্তে সেখানে বিচার হতে পারে। তুরস্কে নেতানিয়াহু ও অন্যান্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গাজামুখী ত্রাণবাহী ফ্লোটিলা ঘটনায় নির্যাতন ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আইনি কার্যক্রমের কথা জানা গেছে। তবে অভিযোগ বা পরোয়ানা থাকলেই কেউ অপরাধী প্রমাণিত হয় না।

আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে সাবেক চিলি শাসক অগাস্তো পিনোশেকে (১৯৯৮, লন্ডন) এবং সিরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের (২০২৫, ফ্রান্স) বিরুদ্ধে বিদেশি আদালতে কার্যক্রমের নজির রয়েছে। ফ্রান্সের সর্বোচ্চ আদালত গত জুলাই আসাদের বিরুদ্ধে পরোয়ানা বাতিল করলেও বলেছে, ক্ষমতা ছাড়ার পর নতুন করে পরোয়ানা জারি করা যেতে পারে।

**বাস্তব গ্রেপ্তার কতটা সম্ভব?**

নেতানিয়াহুকে আটক করা বাস্তবে কঠিন হতে পারে। আইসিসির নিজস্ব পুলিশ বাহিনী নেই; গ্রেপ্তারি সদস্যরাষ্ট্র ও সংশ্লিষ্ট দেশের কর্তৃপক্ষের ওপর নির্ভরশীল। গ্রেপ্তারের আশঙ্কায় তিনি আইসিসির সদস্যরাষ্ট্রগুলোতে সফর এড়িয়ে চলতে পারেন। পাশাপাশি, ইসরায়েলের নতুন সরকার তাঁকে আন্তর্জাতিক আদালতের কাছে হস্তান্তর করতে রাজি হবে কি না, সেটিও বড় প্রশ্ন।

**আইসিজেয়ে গণহত্যার মামলা: রাষ্ট্রের দায়**

গাজায় গণহত্যার অভিযোগে দক্ষিণ আফ্রিকা ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) ইসরায়েলের বিরুদ্ধে মামলা করেছিল। এই মামলা আইসিসির কার্যক্রম থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। আইসিসি ব্যক্তির ফৌজদারি দায় নির্ধারণ করে, আর আইসিজে রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে বিরোধ নিষ্পত্তি করে এবং গণহত্যা সনদসহ আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে রাষ্ট্রের দায় বিবেচনা করে।

ফলে নেতানিয়াহু পদ ছাড়লেও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে এই মামলার ওপর সরাসরি প্রভাব পড়বে না। মামলাটি রাষ্ট্র হিসেবে ইসরায়েলের দায়কে কেন্দ্র করে চলবে। তবে নেতানিয়াহুর বক্তব্য, সিদ্ধান্ত ও সরকারি কর্মকাণ্ড মামলায় প্রাসঙ্গিক প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। গণহত্যার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট কাজের পাশাপাশি অভিপ্রায় নির্ণয় গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েল ২০২৬ সালের মার্চে পাল্টা যুক্তি জমা দিয়েছে। আদালতের সময়সূচি অনুযায়ী, দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২০২৭ সালের ২২ নভেম্বর ও ইসরায়েলকে ২০২৯ সালের ২২ মে পর্যন্ত পরবর্তী জবাব দেওয়ার সময় দেওয়া হয়েছে। চূড়ান্ত রায় পেতে আরও কয়েক বছর লাগতে পারে।

**স্বদেশী দুর্নীতির মামলা চলমান**

আন্তর্জাতিক আদালতের পাশাপাশি ইসরায়েলে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে দুর্নীতির তিনটি মামলা (ঘুষ, জালিয়াতি, বিশ্বাসভঙ্গ) ২০২০ সাল থেকে চলছে। তিনি অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছেন। গত নভেম্বরে তিনি প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের কাছে ক্ষমার আবেদন করলেন। এরপর গত এপ্রিলে প্রেসিডেন্টের দপ্তর জানিয়েছে, ক্ষমার সিদ্ধান্তের আগে দুই পক্ষের আদালতের বাইরে সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা করা উচিত। বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার লাপিদ মন্তব্য করেছেন, নেতানিয়াহু দোষ স্বীকার না করলে এবং রাজনীতি থেকে সরে না দাঁড়ালে তাঁকে ক্ষমা করা সম্ভব নয়। ক্ষমার আবেদন, বিচারিক প্রক্রিয়া ও সম্ভাব্য সমঝোতার চূড়ান্ত ফলাফল এখনো অনিশ্চিত।

October 30, 2026
ক্ষমতা ছাড়লেও রেহাই নেই নেতানিয়াহুর, বহাল থাকবে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

আরও সংবাদ

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

©2025 ichamotinews .com

Developed By: ShimantoIT